1. admin@manobkollan.com : admin :
  2. mkltdnews@gmail.com : Anamul Gazi : Anamul Gazi
  3. mkltd2020@gmail.com : Mehedi Hasan : Mehedi Hasan
  4. riff1431@gmail.com : Shariar R. Arif : Shariar R. Arif
শ্বাসরুদ্ধকর ৮ ঘন্টা: পাটুরিয়া ঘাট থেকে অপহৃত সিফাতকে উদ্ধার করলো হাতিরঝিল থানা পুলিশ - মানব কল্যান - মানব কল্যাণ
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২০’ উদযাপিত দর্শনা হিমেল আবা‌সিক হোটেলে দর্শনা থানা পু‌লি‌শের অ‌ভিযান যুবতীসহ বিজিবি সদস্য আটক ২ ডিমলায় ৩য় শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা গ্রেফতার ১ ডিমলায় শিক্ষক মিলন মেলা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৮০ ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন অভারহেড ট্যাংক নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেন মেয়র জিপু চৌধুরী ভ্যান চুরি হয়ে যাওয়ায় হতদরিদ্র বক্কারের মানবেতর জীবনযাপন মৌলভীবাজারে জেলা পরিষদের উপনির্বাচনে মিছবাহুর রহমান বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হয়েছেন রাজাপুরে আইন অমান্য করে জেলেরা ধরছে মা ইলিশ ছবি তুলতে গিয়ে হামলার স্বীকার সাংবাদিকরা ভান্ডারিয়ায় গাঁজাসহ এক মাদক কারবারী আটক নওগাঁর মান্দা উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে

শ্বাসরুদ্ধকর ৮ ঘন্টা: পাটুরিয়া ঘাট থেকে অপহৃত সিফাতকে উদ্ধার করলো হাতিরঝিল থানা পুলিশ – মানব কল্যান

মেহেদী হাসান
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০

 

ফিরোজ হাওলাদার। পেশায় রঙ মিস্ত্রি। দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার ভাড়া বাসায় থাকে। বড় ছেলের বয়স ১১ বছর। ছোট ছেলে সিফাতের বয়স ৪ বছর।
সীমিত আয়ের সংসারে ভাড়া বাসায় থেকে স্ত্রী-সন্তানের মুখে দুবেল খাবার জোটাতেই হিমশিম খেতে হয় ফিরোজ হাওলাদারকে। লক ডাউনের কারনে কাজ না থাকায় আত্নীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় খেয়ে না খেয়ে সংসার চলছিল তার।

লক ডাউনের কারনে ঘরে থাকতে থাকতে অস্থির হয়ে উঠেছিল ছোট ছেলে সিফাত। ঈদে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হবে না জেনে মন আরো বেশী খারাপ।

২০ মে’ ২০২০, বুধবার। বাসার সামনেই খেলছিল সিফাত। পুলিশের দেওয়া আটায় রুটি বানাচ্ছিল তার মা। ক্ষুধার্ত সিফাতের জন্য। কাজ না থাকায় বিছানায় শুয়ে ফিরোজ হাওলাদার।

সকাল এগারোটার দিকে স্ত্রীর চিৎকারে রুমের বাইরে আসে ফিরোজ হাওলাদার। তার স্ত্রী রুটি বানাতে ব্যস্ত থাকায় খেয়াল রাখতে পারে নি সিফাতের। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সিফাতকে।

ফিরোজ ও তার স্ত্রীর আর্ত চিৎকারে জড়ো হলো আশেপাশের লোকজন। তন্নতন্ন করে খোজা হলো বাসার চারপাশ। বাসা পেরিয়ে আশেপাশের রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, পরিচিতদের বাড়িঘর। খবর শুনে ছুটে এলো ফিরোজের পরিচিত কয়েকজন রঙ মিস্ত্রি, বন্ধু-বান্ধব ও আত্নীয়-স্বজন। আলাদা আলাদাভাবে খোজা হলো পুরো এলাকা। মগবাজার, পেয়ারাবাগ, আমবাগান, পাগলা মাজার, মধুবাগ, নয়াটোলা, হাতিরঝিল, দিলুরোড, ইস্কাটন, রমনা, সাত রাস্তা, মহাখালী, রেলওয়ে স্টেশন, কাওরানবাজার।

আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে চলে গেল আশেপাশের থানাগুলোতে।
সিফাতের কোন সন্ধান নেই।

দুপুর সোয়া একটার দিকেঅজ্ঞাত একটি মোবাইল নম্বর থেকে সিফাতের বাবার মোবাইলে কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, ‘সিফাতকে অপহরন করা হয়েছে। ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে সে তার ছেলেকে ফিরে পেতে পারে। পুলিশকে জানালে বা কোনরকম চালাকি করলে ছেলের লাশের খোঁজও পাবে না’।

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে ফিরোজ হাওলাদারের। একবেলা রান্না করার মতো চাল নেই যার ঘরে, সে কিভাবে যোগাড় করবে ৫০ হাজার টাকা।

পুরো বিষয়টি মোবাইল ফোনে হাতিরঝিল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশীদ (Abdur Rashid) কে জানিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সিফাতের বাবা।

সিফাতকে মুক্তিপণের জন্য অপহণ করা হয়েছে বিষয়টি হাতিরঝিল থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে জানতে পারলে অপহরনকারীরা সিফাতকে মেরে ফেলতে পারে – এই ভয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশের সাথে ফিরোজ হাওলাদারকে যোগাযোগ করতে দিতে চাচ্ছিলো না অপহৃত সিফাতের মা। পুলিশ তার সাথে বার বার যোগাযোগ করতে চেষ্টা করার এক পর্যায়ে সিফাতের মা মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে ফেলে।

এ ঘটনা জেনে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার (Biplob Talukder) সিফাতের বাসা খুঁজে তার মা-বাবার সাথে যোগাযোগ করে অপহৃত সিফাত উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত বাসায় না ফেরার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদেরকে।

বিকেল ০৩.২৫ ঘটিকায় ফিরোজ হাওলাদারের বাসা খুঁজে পায় হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

সিফাত অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে অপহরণকারী তা ঘূনাক্ষরেও টের পাবে না বুঝিয়ে আশ্বস্ত করা হয় অপহৃত সিফাতের বাবা-মাকে। দুই বছর আগে তোলা সিফাতের একটি সাদাকালো ছবি ছিল বাবা-মা’র কাছে।

পুলিশের পরামর্শে অপহরণকারীদের সাথে মোবাইলে মুক্তিপণের বিষয়ে নেগোসিয়েশন চালিয়ে যেতে থাকে ফিরোজ হাওলাদার।
সামান্য হেরফের হলেই প্রতি মুহূর্তেই সিফাতের ছিন্নভিন্ন লাশ বস্তাবন্দি করে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের এডিসি হাফিজ আল ফারুক এর তত্ত্বাবধানে এসআই শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে হাতিরঝিল থানার একটি টীম রাত ১১. ৪০ ঘটিকায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে সিফাতকে।
অপহরণকারীদের তাড়া করে ডেমরা, মিরপুর, সাভার হয়ে রাত ১০.৫০ ঘটিকায় পাটুরিয়া ঘাটে পৌছে হাতিরঝিল থানা পুলিশের টীম।

প্রচন্ড বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষ্যে গ্রামেফিরতে উদগ্রীব মানুষে জনাকীর্ন পাটুরিয়া ঘাট। নৌযান চলাচল বন্ধ। কালক্ষেপণ না করে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়াকে উপেক্ষা করে সিফাতকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ। টীমটি দুভাগে ভাগ হয়ে খুঁজতে থাকে সিফাতকে। সম্বল সিফাতের দুই বছর বয়সী একটি সাদাকালো ছবি। সিফাতের বাবাকে একটু দূরে গাড়িতে বসিয়ে রাখা হয়েছে। যদি অপহরণকারীরা তাকে দেখে সিফাতকে নিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়!

সিফাতের বাবাও চাচ্ছিলেন না গাড়ি থেকে নামতে। যদি অপহরণকারীরা তাকে পুলিশের সাথে দেখে সিফাতের কোন ক্ষতি করে!

রাত ১১.৪০ ঘটিকায় একটি টং ঘরের দেয়াল ঘেষে ঘুমন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিফাতকে। গাড়ি থেকে ডেকে আনা হয় তার বাবাকে। বাবার কোলে ঝাপিয়ে পড়ে সিফাত।

সিফাত জানায়, ‘সে যখন বাসার বাইরে খেলছিল, তখন ‘মিলন মামা’ চকোলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে দোকানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যায়।

মিলন কয়েক মাস যাবত সিফাতের বাবার সহকারী হিসেবে কাজ করছিল। বাসায় প্রায়ই আসতো। যে কারনে তাকে মামা ডাকতো সিফাত।
মিলনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সোসাল মিডিয়ায় সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

বিভাগ

মানব কল্যাণ ডট কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Terms And Conditions |Privacy Policy  | About Us | Contact  Us
Development Nillhost