তোফায়েল আহমেদ,এক জীবন্ত কিংবদন্তী – মানব কল্যান

 

নূরুজ্জামান সরকার নীহার বকুল।

রাজনীতি,কেউ বলেন নীতির রাজা।আর কেউ বলেন রাজার নীতি। তাবৎ দুনিয়ার সকল অভিযোগ যেন এই রাজনীতিবিদদেরই শুনতে হয়। আবার তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ কম, এমনটাও নয়। কিন্তু সবদেশেই সকল বিতর্কের উর্ধ্বে গিয়ে কিছু রাজনীতিবিদ থাকেন, যারা দলমত নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্য। আজ এমনই এক রাজনীতিবিদ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো। জানার চেষ্টা করব বাংলাদেশের কিংবদন্তী তুল্য রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ সম্পর্কে।

তোফায়েল আহমেদের জন্ম ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ২২ অক্টোবর, তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামে। পিতা মৌলভী আজহার আলী। মাতা ফাতেমা বেগম। ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর তোফায়েল ভোলা সরকারী হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে, ব্রজমোহন কলেজ থেকে আইএসসি এবং বিএসসি পাশ করেন। ছাত্রজীবনে ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে এমএসসি পাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন ১৯৬৪ সালে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি, ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল সংসদের সহ-সভাপতি, ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ডাকসু’র ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তখনই ৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন।

জানা যায়, ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯’র ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তুমুল গণআন্দোলন গড়ে তোলে এবং ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুসহ সকল রাজবন্দীকে মুক্ত করেন। ১৯৬৯-এ তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেইসাথে ১৯৭০ সালের জুনে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে ভোলার দৌলত খাঁ-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং মুজিব বাহিনীর অঞ্চল ভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন। ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে তার রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ করেন। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫-এ দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ঘোষণার পর তিনি রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন। তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সফরের সফর সঙ্গী হন। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয় এবং দীর্ঘ তিন বছর তিনি কারান্তরীণ ছিলেন।

১৯৭৫ সালের মর্মন্তুদ ঘটনার পর জনগণের ভোটাধিকার অর্জন ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রত্যাবর্তনের আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। তিনি এরশাদ আমলে ও পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে সংগঠিত আন্দোলন করতে গিয়েও দীর্ঘদিন জেল খাটেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও স্ত্রী-কন্যাসহ মিথ্যা মামলার আসামী হয়েছেন। কিন্তু হুমকির কাছে নতি স্বীকার করেননি। তোফায়েল আহমেদের রাজনীতি ছাড়াও সাহিত্য-সঙ্গীত ও সুকুমার শিল্পের প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে বলে জানা যায়। এভাবেই রাজনীতিতে জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। আর এভাবেই দীর্ঘ পথ পরিক্রমার মধ্যে দিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন এক কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ।

Author: Anamul Gazi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *