কলাপাড়ায় ১৩ গ্রামের ৫ হাজার মানুষ উদযাপন করছেন আগাম ঈদুল ফিতর

আগাম ঈদুল ফিতর

কলাপাড়ায় ১৩ গ্রামের ৫ হাজার মানুষ উদযাপন করছেন আগাম ঈদুল ফিতর

 পটুয়াখালী কলাপাড়ায় সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আজ ১৩ গ্রামের ৫ হাজার মানুষ উদযাপন করছেন পবিত্র ঈদুল ফিতর। সকাল থেকে ঈদের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে শিশু-কিশোরসহ এসব গ্রামের মানুষের মাঝে।
স্থানীয়ভাবে এরা চট্রগ্রামের এলাহাবাদ সুফিয়া ও চাঁন টুপির অনুসারী হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর সৌদি আরবসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানদের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ পালন করেন এ চাঁন টুপি অনুসারীরা। প্রায় ১০০ বছর ধরে তারা আগাম ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল সাড়ে ৮.৩০ টায় কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহ্সূফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গনে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। হাফেজ মোহাম্মদ আরিফ এতে ইমামতি করেন। এ জামাতে ধানখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া, গিলাতলা, ফুলতলী ও পাঁচজুনিয়া গ্রামের চাঁন টুপির লোকেরা অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়াও উপজেলার আরও ১২ টি গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলাপাড়া পৌর শহরের নাইয়াপট্টি, উত্তর লালুয়া মাঝিবাড়ি সহ বিভিন্ন স্পটে আরও ১২ টি গ্রাামের চাঁনটুপি অনুসারীদের আটটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া, গন্ডামারি, মরিচবুনিয়া, চালিতাবুনিয়া, ছইলাবুনিয়া, সেনের হাওলা, বাদুরতলী, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তেগাছিয়া, সাফাখালী, চরপাড়া, নিজামপুর এবং আজিমদ্দিন গ্রামে এ তরিকার পাঁচ হাজার পরিবারের ১৫ হাজার লোক আজ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠান উদযাপন করছেন।
উপজেলা শহরের নাইয়াপট্টি এলাকার চাঁন টুপি অনুসারী হাবলু ব্যাপারী জানান, রমজানের ৩০টি রোজা রেখে আজ ঈদ পালন করছি। এটা আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসছে।
নিশানবাড়িয়া নিবাসী সোহেল আরমান বলেন, আজ ঈদ। আমরা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। আমাদের বংশ পরম্পরায় এ রেওয়াজ চলে আসছে। নিশানবাড়িয়া দরবার শরীফে তরিকা অনুযায়ী সকল অনুষ্ঠান পালন করে আসছে।
ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া দরবার শরীফের পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন বিশ্বাস জানান, তাঁরা চট্রগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের পশ্চিম এলাহাবাদ গ্রামের সিলসিলায়ে আলীয়া কাদরিয়া চিশতিয়া জাহাগিরিয়িা তরিকতের অনুসারী। যার কারণে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে তাঁরা একদিন আগে রোজা রাখা শুরু করেন এবং ঈদও একদিন আগে উদযাপন করে থাকেন।

Author: Mansur Talukder

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *