1. admin@manobkollan.com : admin :
  2. mkltdnews@gmail.com : Anamul Gazi : Anamul Gazi
  3. mkltd2020@gmail.com : Mansur Talukder : Mansur Talukder
  4. riff1431@gmail.com : Shariar R. Arif : Shariar R. Arif
  5. skjubayer.barguna@gmail.com : sk2021 :
  6. dxd9807@gmail.com : Sohel Mahmud : Sohel Mahmud
শহীদ আসাদ অমর হোক-নুরুলহক নুর - মানব কল্যাণ - Manobkollan
শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ০৬:১২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
আসসালামু আলাইকুম  মানবকল্যাণ এর সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য  আপনাকে অভিনন্দন। আমরা আপনাদের সহযোগীতায় একদিন শিখরে পৌছাব "ই"। ইনশাআল্লাহ । বিজ্ঞপ্তিঃ সারাদেশব্যপী প্রতিনিধি নিয়োগ চলিতেছে।   ই-মেইলঃ info@manobkollan.com ফোন নাম্বারঃ 01718863323

শহীদ আসাদ অমর হোক-নুরুলহক নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২২০৯ Time View
নুরুলহক নুর

শহীদ আসাদ অমর হোক

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ৫২তম বার্ষিকী দিচ্ছে ডাক
স্বৈরতান্ত্রিক ক্ষমতা নিপাত যাক, রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা পাক।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা প্রথমে গভর্নর জেনারেল ও পরে প্রেসিডেন্টের হাতে অর্থাৎ জন্মলগ্ন থেকেই একটি পদে কেন্দ্রীভূত ছিল। আর এই রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল পশ্চিম পাকিস্তান। পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অধিক জনসংখ্যার দেশ এবং বেশি সম্পদ সৃষ্টি করলেও পশ্চিম পাকিস্তানে অনেক বেশি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন হচ্ছিল, চাকরিবাকরি থেকে সমস্ত জায়গায় তাদেরই ছিল অগ্রাধিকার। বিভিন্ন আইনি-বেআইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে সম্পদ পাচার হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানকে সমৃদ্ধ করছিল। ফলে পাকিস্তানের দুই অংশের ভেতর অর্থনৈতিক, এমনকি মর্যাদার বৈষম্য প্রকট রূপ লাভ করে। পূর্ব পাকিস্তানকে কার্যত পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশ বানানো হয়।
শুরু থেকেই পাকিস্তানের দুই অংশের সমান মর্যাদা, প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একটি গণমুখী শাসনতন্ত্র (সংবিধান) প্রণয়নের দাবী করে আসছিল এদেশের মানুষ। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র কিছুটা আশা জাগালেও আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করে ‘মৌলিক গণতন্ত্রের’ নামে জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সামান্য সম্ভাবনাও নস্যাৎ করে দেয়।
এই বঞ্চনা ও গণতন্ত্রহীনতা পূর্বপাকিস্তানের মানুষ মেনে নিতে পারেনি। বৈষম্যের অবসান, স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সংগ্রাম দানা বাঁধতে থাকে। এটা দমাতে নিপীড়ন ও নির্যাতন নেমে আসে মুক্তিকামী মানুষের ওপর।
আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ছাত্র অসন্তোষ বিরাজ করছিল, বিশেষ করে ৬২ সালের শিক্ষা সংকোচনকারী নীতির বিরুদ্ধে। ১৯৬৬ সালে ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নটা সামনে চলে আসে। ছাত্রদের আন্দোলনও ১৯৬৮ সালে এসে প্রবল রূপ ধারণ করে।
নভেম্বরের দিকে ছাত্র অসন্তোষের সাথে অন্যান্য নিপীড়িত জনগণের বিক্ষোভ যুক্ত হয়ে তা গণআন্দোলনের দিকে বাঁক নেয়। বিশেষ করে ৬ ডিসেম্বর পল্টন ময়দানে ভাসানী ন্যাপ আয়োজিত ছাত্র-শ্রমিক-কৃষকের জনসভা শেষে গভর্নর হাউজ ঘেরাও এবং তৎপরিবর্তী বিভিন্ন দলের কর্মসূচি একে গণআন্দোলনে রূপান্তরিত করে। মওলানা ভাসানীর ডাকে ৭ ডিসেম্বর ঢাকায় হরতাল পালিত হয়। ৮ ডিসেম্বর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ডাকে গোটা পূর্ববাংলায় হরতাল পালিত হয়। ভাসানী ন্যাপের ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি গণআন্দোলনের পরিসর বাড়িয়ে দেয়।
১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ১১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে ছাত্র সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। ১১ দফা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর ভেতর আন্দোলনগত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ১১ দফায় স্বায়ত্তশাসনের দাবির সাথে যুক্ত হয় শ্রমিক, কৃষকসহ মেহনতি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন। ফলশ্রুতিতে ছাত্র আন্দোলন ছাড়াও শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবীতে আন্দোলন গণআন্দোলনকে প্রচণ্ড গতি এনে দেয়।
২০ জানুয়ারি ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান নিহত হলে গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে মোড় নেয়। ২৪ জানুয়ারি হরতাল চলাকালীন পুলিশের গুলিতে কিশোর ছাত্র মতিউর ও ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হলে ঢাকার পরিস্থিতি বিস্ফোরন্মুখ রূপ ধারণ করে ও সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সূচনা হয় ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। আইয়ুব খান যখন উন্নয়নের দশক পালনের ব্যাপক তোড়জোর করছে তার ভেতরই পতন ঘটে আইয়ুবশাহীর।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে নতুন একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়নে গণপরিষদের নির্বাচন দিতে পাকিস্তানী শাসকেরা বাধ্য হয়। আওয়ামী লীগের ৬ দফা কর্মসূচিতে পূর্বপাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও বৈষম্য হ্রাসের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব থাকায় এ দেশের মানুষের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকরা জনগণের রায় মেনে না নিয়ে সামরিক বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে ২৫ মার্চ থেকে নিরস্ত্র জনগণকে হত্যা শুরু করে। বাংলাদেশের মানুষ প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, শুরু হয় স্বাধীনতার জন্য জনযুদ্ধ এবং পাকিস্তানীদের পরাজিত করে জন্ম হয় স্বাধীন দেশের।
নুরুলহক নুর
স্বাধীনতা লাভের পরপরই ১৯৭২ সালে একটি শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়। এই শাসনতন্ত্রে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার অনেকটুকু প্রতিফলন থাকলেও অত্যন্ত সুকৌশলে পাকিস্তানী স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামো বহাল রাখা হয়।
উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ৫২ বছর পরেও আমরা দেখছি রাষ্ট্রক্ষমতা একটি পদেই কেন্দ্রীভূত আছে। রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মানুষের ভোটাধিকার ধ্বংস করে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। মানুষে মানুষে বৈষম্য প্রকটতর হয়েছে। বিদেশে সম্পদ পাচারের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি গোটা অর্থনীতিকেই গ্রাস করেছে। কোটি কোটি জনগণের শ্রমে, ঘামে অর্জিত সম্পদ চলে যাচ্ছে মাত্র কয়েকশ পাচারকারীর দখলে।
এই দমবদ্ধ অবস্থা থেকে মানুষ মুক্তি চায়। মতপ্রকাশের অধিকার চায়। বৈষম্যমুক্তভাবে সমান মর্যাদায় বেঁচে থাকার অধিকার চায়। লুটপাট ও পাচার মুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী অর্থনীতি দেখতে চায়।
রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের স্বাভাবিক অধিকার চায়। সর্বোপরি রাষ্ট্র পরিচালকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রের ওপর তার মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
এজন্য বিদ্যমান স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে হবে। তার জন্য বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক সংবিধানের গণতন্ত্রায়ন করতে হবে। রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্রায়নের লক্ষ্যে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক আইনসহ সমস্ত আইনকানুন সংস্কার, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ও পৃথকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করে সকল উন্নয়ন কাজ ও সেবা প্রদানের ভার দিতে হবে তাদের ওপর। বর্তমান লুটেরা অর্থনীতির তথাকথিত উন্নয়নের বদলে সকলের সুযোগের সমতার ভিত্তিতে অর্থনীতির কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনমুখী পুনর্গঠন করতে হবে। পাচার বন্ধ করা এবং বিনিয়োগের সুরক্ষা দিয়ে পাচারকৃত পুঁজি দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধকে আজ লুন্ঠনমূলক, অগণতান্ত্রিক শাসনের বৈধতা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাকে প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের নীতিতে দেশকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায় আজ মুক্তিকামী জনতার কাঁধে। স্বাধীনতার ৫০ বছরের প্রাক্কালে আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই গড়ে তোলার আহবান জানাই।
ছবি; শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ, ছাত্র- যুব- শ্রমিক অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন ও রাষ্ট্রচিন্তার যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত লিফলেট বিতরণকালে।

সোসাল মিডিয়ায় সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ

বিভাগ

© All rights reserved © 2018-2021
Development Nillhost
error: Content is protected !!